Matarbari coal power plants: Japanese companies threaten communities and climate in Bangladesh

September 2020

In the wake of the fiercest storm Bangladesh has experienced this century, Japanese financial institutions and coal developers are trying to push three new coal power stations, fuelling extreme weather and climate change.

Locals on remote Matarbari Island on the southeastern coast of Bangladesh are still dealing with the devastation of super cyclone Amphan, which has displaced over two million people. But these communities are also contending with a massive build-out of coal power which threatens their lives and livelihoods, and will worsen the extreme weather conditions caused by climate change.

The Japan International Cooperation Agency (JICA), Nippon Export and Investment Insurance (NEXI), Sumitomo Corporation (Sumitomo), and Sumitomo Mitsui Banking Corporation (SMBC) are pursuing proposed new coal power stations totalling 3,100 MW of capacity.  These projects:

  • have displaced local communities, destroyed livelihoods, and violated workers’ rights,
  • would worsen air pollution, killing thousands of people over the lifetime of the projects,
  • would increase climate impacts on the already vulnerable Bangladesh, releasing over 506 million tonnes of CO2 throughout the plants’ operational lifetimes – five times more than the entire country’s carbon dioxide emissions from fossil fuels and industry for 2018, and
  • violate the climate policies of JICA, SMBC and Sumitomo.

Given these health, human rights and climate impacts, JICA, NEXI, SMBC and Sumitomo need to get out of the coal projects on Matarbari Island immediately.

“We have no room to build anything that emits CO2 emissions.”

Fatih Birol, Executive Director, International Energy Agency.

জাপানি আর্থিক ও কয়লা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের ওপর যখন তিনটি নতুন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র চাপিয়ে দিচ্ছে ঠিক তখনি শতাব্দীর ভয়ঙ্করতম ঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হানে। তাদের এ প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনে গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দূরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত মাতারবাড়ি দ্বীপের বাসিন্দারা এখনো সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। এই ঘূর্ণিঝড় বিশ লক্ষেরও বেশি মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করেছে। তবে ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও দ্বীপের বাসিন্দাদেরকে লড়তে হচ্ছে বিশাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে, যা প্রতিনিয়ত তাদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইতোমধ্যেই দুঃসহ হয়ে ওঠা আবহাওয়ার আরো অবনতি ঘটাবে এ বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো।                 

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (নেক্সি), সুমিতোমো মিতসুই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এসএমবিসি) ও সুমিতোমো কর্পোরেশন – এই প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৩,১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রস্তাবিত তিনটি নতুন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। এ প্রকল্পগুলো:

  • ইতোমধ্যেই বহুসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দাকে বাস্তুচ্যুত করেছে, তাদের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করেছে। এমনকি সেখানে কাজ করা শ্রমিকদের অধিকারও লঙ্ঘন করেছে।
  • সক্রিয় থাকাকালীন বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটাবে।
  • সক্রিয় থাকাকালীন ৫০৬ মিলিয়ন টনেরও বেশি কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই হুমকির মুখে থাকা বাংলাদেশের ওপর জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব বাড়াবে। কার্বন নিঃসরণের এই পরিমাণ ২০১৮ সালে সারাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানী ও শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত কার্বনের পাঁচ গুণেরও বেশি।
  • স্বয়ং জাইকা, এসএমবিসি ও সুমিতোমোর জলবায়ু নীতিরই লঙ্ঘণ করছে।

উপরোক্ত স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও জলবায়ু প্রভাব বিবেচনা করে জাইকা, নেক্সি, এসএমবিসি ও সুমিতোমোর উচিত অবিলম্বে মাতারবাড়ির প্রকল্পগুলো থেকে প্রত্যাহার করা। 

Take action

Tell these companies to stop pursuing coal power in Matarbari

পদক্ষেপ নিনঃ

নিচের ফর্মটি পূরণ করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলতে পারেন তারা যেন মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বার্তা পাঠাতে আপনার নাম ও ইমেইল অ্যাড্রেস লেখার পর ‘আপনার বার্তা পাঠিয়ে দিন’ বাটন চাপুন।

Matarbari: image by Tanweer Morshed / CC BY-SA (https://creativecommons.org/licenses/by-sa/3.0)

The Dirty Three

Matarbari Phase 1 (1200MW)

The first phase of the Matarbari coal-power plant, costing a colossal US$4.51 billion, is jointly sponsored by Bangladesh state owned Coal Power Generation Company Bangladesh Limited (CPGCBL) and Sumitomo with SMBC acting as financial advisor. JICA has already provided US$1.48 billion to build the power plant and adjacent coal import infrastructure in the form of an official development assistance loan to Bangladesh. JICA intends to provide an additional US$1.33 billion to complete the project. NEXI is providing export credit insurance coverage for this project.

Matarbari Phase 2 (1200 MW)

The Bangladesh government has reportedly requested further JICA loan assistance to build a second plant at Matarbari, as Phase 1 is “suggested to be economically nonviable, being the only plant to rely on the planned coal port infrastructure.”

NGOs from 18 countries around the world have urged Japan to stop funding Matarbari Phase 2.

Matarbari Kohelia Phase 1 (700 MW)

The third proposed plant at Matarbari, Kohelia (Phase 1), is a joint venture between CPGCBL and Singapore’s Sembcorp Industries. This plant is also backed by Japan’s SMBC, playing a lead role as financial advisor. 

Given that these projects are on a very small island and proximate to one another, the cumulative impacts of these three projects will be felt by the communities on the island.

দূষিত ত্রয়ী

মাতারবাড়ি ১ম ধাপ (১২০০ মেগাওয়াট)

বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিবিএল) ও জাপানভিত্তিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো কর্পোরেশনের যৌথ অর্থায়নে ৪.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ধাপের কাজ চলছে। এ প্রকল্পে আর্থিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে সুমিতোমো মিতসুই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এসএমবিসি)। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তৎসংলগ্ন কয়লা আমদানি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে ১.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে জাইকা। প্রকল্পটি শেষ করার জন্য আরো ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার দিতে আগ্রহী জাপানভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা। এ প্রকল্পের রপ্তানি ঋণ বীমা সহায়তা দিচ্ছে নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (নেক্সি)।

মাতারবাড়ি ২য় ধাপ (১২০০ মেগাওয়াট)

প্রস্তাবিত কয়লা বন্দরের ওপর নির্ভরশীল একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় প্রথম ধাপ আর্থিকভাবে ফলপ্রসূ হবে না,” এমন কারণ দেখিয়ে মাতারবাড়িতে আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জাইকাকে ঋণ সহায়তা দেয়ার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

তবে, ২য় ধাপের অর্থায়ন বন্ধ করতে জাপানকে জোর আহ্বান জানিয়েছে ১৮টি দেশের বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।

মাতারবাড়ি কোহেলিয়া ১ম ধাপ (৭০০ মেগাওয়াট)

মাতারবাড়িতে প্রস্তাবিত তৃতীয় প্রকল্প হলো কোহেলিয়া প্রথম ধাপ। এটি সিপিজিবিএল ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক সেম্বকর্প ইন্ডাস্ট্রিজের একটি যৌথ উদ্যোগ। এ প্রকল্পেও আর্থিক পরামর্শকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছে জাপানের এসএমবিসি

ছোট একটি দ্বীপে পাশাপাশি এমন তিনটি প্রকল্প হওয়ায় এগুলোর সম্মিলিত প্রভাব দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে দ্বীপের বাসিন্দারা।

Devastating health and human rights impacts

Lost lives, homes and livelihoods

According to local news reports, the construction of Matarbari Phase 1 blocked watergates and natural drainage systems designed to drain flooding caused by monsoons and cyclone-induced storms, “resulting in water logging after heavy rainfall, causing immense suffering for locals”. In 2018, 22 out of 31 villages were waterlogged and inundated, and local communities reported “five incidents of death by drowning, of which all were children.” Seven school children were also severely injured by a boat sinking incident during their commute from school.

জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের ভয়াবহ ক্ষতি

জীবন, জীবিকা ও আবাস ধ্বংস

স্থানীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি করা নর্দমা ও প্রাকৃতিক নালার প্রবাহ ব্যাহত করেছে মাতারবাড়ি প্রথম ধাপ নির্মাণের কাজ । ফলে “বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হওয়ায় সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে সাধারন মানুষ।” ২০১৮ সালে ঐ অঞ্চলের ৩১টি গ্রামের ২২টিই প্লাবিত ও জলাবদ্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, “ঐ সময় সেখানে পাঁচটি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।” এছাড়াও স্কুল থেকে ফেরার পথে নৌকাডুবিতে সাতজন ছাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়।

Children are forced to commute to school on small boats because of water logging due to the construction of Matarbari Phase 1. Note the lack of safety gear or life jackets. Photo Credit: CLEAN (Coastal Livelihood and Environmental Action Network) Bangladesh
মাতারবাড়ি প্রথম ধাপ নির্মাণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে ছোট ছোট নৌকায় করে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা। নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা লাইফ জ্যাকেটের অভাবের বিষয়টি লক্ষণীয়। ছবি: ক্লিন (কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যাণ্ড এনভায়রোনমেণ্ট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক) বাংলাদেশ

The land acquisition process for Matarbari Phase 1, which commenced in 2013, has resulted in the loss of people’s homes and livelihoods. The process has been met with resentment because the community was not properly consulted and, to date, not adequately compensated. Displaced families have not been relocated to new housing facilities promised by the project proponents, forcing some to migrate and resettle elsewhere.

মাতারবাড়ি প্রথম ধাপের জন্য ২০১৩ সালে শুরু হওয়া জমি অধিগ্রহণের কারণে স্থানীয়দের তাদের বসতভিটা ও জীবিকা হারাতে হয়েছিল। অধিগ্রহণের আগে স্থানীয়দের সাথে সঠিকভাবে পরামর্শ না করায় এবং এখন পর্যন্ত তাদেরকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য ক্ষোভ ও হতাশা বয়ে এনেছে। প্রকল্প কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন কোনো বসতবাড়িতে পুনর্বাসিত না হওয়ায় উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং পুনর্বাসন করতে বাধ্য হচ্ছে।

Villagers who were evicted due to the construction of the Matarbari Kohelia coal plant. Photo Credit: Sharif Jamil.
মাতারবাড়ি কোহেলিয়া কয়লা প্রকল্পের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া গ্রামবাসী। ছবি কৃতজ্ঞতা: শরিফ জামিল

The communities have also lost traditional livelihoods in salt cultivation and shrimp farming, leaving 20,000 people without the means to make a living.

Choked by coal

Bangladesh’s air quality is already amongst the worst in the world, with IQAir ranking Bangladesh as having the worst average air quality in 2019. 

What’s more, despite the proposed and under-construction coal power plants being pursued by Japanese companies, they would not be acceptable in Japan due to their rates of air pollution. According to research by Greenpeace Southeast Asia and Greenpeace Japan, Matarbari Phase 1 would not meet the pollution standards applied to new plants constructed in Japan.

লবণ ও চিংড়ি চাষের মতো এলাকাবাসীর ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। এসব পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২০,০০০ মানুষের বর্তমানে জীবিকা উপার্জনের অন্য কোনো উপায় নেই।

কয়লায় দম বন্ধ

২০১৯ সালে প্রকাশিত আইকিউএয়ার র‍্যাংকিং-এর হিসেবে সবচেয়ে বাজে মান নিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বায়ুদূষণে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি।

অবাক করা বিষয় হলো, এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও যে জাপানী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ও নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তারা তাদের বায়ুদূষণের হারের কারণে নিজ দেশেই গ্রহণযোগ্যতা পেতো না। গ্রিনপিস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও গ্রিনপিস জাপানের এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানে নতুন কোনো প্রকল্প তৈরিতে দূষণের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে মাতারবাড়ি প্রথম ধাপ।

Source: Greenpeace Japan and Southeast Asia
সূত্র: গ্রিনপিস জাপান এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়া

According to a 2020 Centre for Research on Energy and Clean Air (CREA) report, pollution from Matarbari (Phase 1 and 2) and Kohelia (Phase 1 and 2) is projected to result in over 10,000 premature deaths over the projects’ operational years. Building three new coal plants at Matarbari would add to Bangladesh’s air pollution-related death toll, which totalled over 120,000 in 2017.

২০২০ সালের সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি এন্ড ক্লিন এয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাতারবাড়ি (১ম ও ২য় ধাপ) এবং কোহেলিয়া (১ম ও ২য় ধাপ) সক্রিয় থাকাকালীন দূষণ থেকে ১০,০০০ মানুষের অকালমৃত্যু হবে। ২০১৭ সালেই বাংলাদেশে বায়ু দূষণ জনিত মৃত্যু ছিল ১২০,০০০। মাতারবাড়ির তিনটি নতুন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র এ সংখ্যাকে আরো বাড়িয়ে দেবে।

Forced to work during the COVID crisis: While the entire world is fighting the coronavirus pandemic and taking strict measures for public health, the 3,000 labourers at the Matarbari construction site were forced to work despite strict government orders to stop. In April 2020, the workers went on strike demanding their right to safe health. When probed by reporters, a CPGCBL spokesperson denied any grievances by workers and stated that work will continue.
On 13 July 2020, unsafe working practices resulted in the death and serious injury of several workers at the Matarbari coal project site. Civil society organisations have condemned the accident.

কাজে বাধ্য করা: পুরো বিশ্ব যখন প্রাণঘাতি মহামারি করোনাভাইরাসের সাথে লড়ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সময় মাতারবাড়ির ৩,০০০ নির্মাণ শ্রমিককে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিলে শ্রমিকেরা তাদের নিরাপদ স্বাস্থ্যের অধিকার দাবি করে কর্মবিরতিতে যান। অথচ, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানকালে সিপিজিবিএলের একজন মুখপাত্র শ্রমিকদের অসন্তুষ্টির বিষয়টি অস্বীকার করেন। প্রকল্পের কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলবে বলেও জানান তিনি। ২০২০ সালের ১৩ জুলাই মাতারবাড়িতে অনিরাপদ কাজের অনুশীলনের কারণে কয়েকজন শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এই দুর্ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।

Threats to climate

“Coal power plants in coastal areas will worsen climate risk.”

Professor Anu Muhammad, Jahangirnagar University, Bangladesh.

Plans to build these three coal power plants are completely out of line with the Paris Agreement goal of keeping global warming to 1.5°C. If built, the three proposed coal plants at Matarbari backed by Japanese financial institutions would produce an estimated 506 million tonnes of carbon dioxide throughout the plants’ operational lifetimes – five times more than the entire country’s carbon dioxide emissions from the burning and use of fossil fuels, and other industrial processes for 2018.

Bangladesh is extremely vulnerable to climate change. The coastal areas of Bangladesh are highly prone to floods, cyclones and storm surges, as seen by the destruction caused by super cyclone Amphan. Even in a scenario where global warming is limited to 2°C by 2050, 42 million people living on coastal Bangladesh would be at risk of flooding at least once a year. Under the same scenario, all of Matarbari Island is projected to be inundated by coastal flooding.

জলবায়ু হুমকি

উপকূলে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র জলবায়ু হুমকিকে আরো বাড়িয়ে দেবে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর মধ্যে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা প্যারিস চুক্তির সাথে মাতারবাড়ি প্রকল্পটি পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। জাপানী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় মাতারবাড়ির এ প্রকল্পগুলো নির্মিত হলে এগুলো সক্রিয় থাকাকালীন প্রায় ৫০৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন করবে, যা ২০১৮ সালে সমগ্র দেশে জীবাশ্ম জ্বালানী ও শিল্প-কারখানা থেকে উৎপাদিত মোট কার্বন নিঃসরণের পাঁচগুণেরও বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তনে চরম হুমকির মুখে বাংলাদেশ: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ, যার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো সুপার সাইক্লোন আমফানের তাণ্ডবলীলা। এমনকি ২০৫০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও বাংলাদেশের উপকূলে বসবাসরত চার কোটি ২০ লাখ মানুষ বছরে অন্তত একবার বন্যার ঝুঁকিতে থাকবেন। একই পরিস্থিতিতে মাতারবাড়ির সবগুলো দ্বীপই উপকূলীয় প্লাবনে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Damaged embankments and roads inundated due to water logging on Matarbari Island.
Photo Credit: CLEAN (Coastal Livelihood and Environmental Action Network) Bangladesh
মাতারবাড়ি দ্বীপে জলাবদ্ধতার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এবং প্লাবিত রাস্তাঘাট।
ছবি: ক্লিন (কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রোমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক) বাংলাদেশ

Violations of climate policy

JICA, Sumitomo and SMBC have all made climate commitments, which are violated by their support for these three power stations. NEXI has failed to assure that its guidelines on environmental and social considerations were properly implemented for Matarbari Phase 1. 

  • JICA has committed to the UN Sustainable Development Goals (SDGs) and the Sendai Framework For Disaster Risk Reduction 2015 – 2030, which aim to make communities safer and more resilient to disasters. JICA itself has created a Climate Change Cooperation Strategy, under which JICA must proactively support the transformation to a low-carbon and climate-resilient society in developing countries.
  • Sumitomo has made clear commitments to “resolving the climate change issues and to realizing a carbon-neutral society” and ruled out development of new coal-fired power plants in its latest climate change policy, expressing support for the Paris Agreement.
  • SMBC has recently announced a policy stating the bank would end support for “newly planned coal-fired power plants,” which should undoubtedly include new projects such as Matarbari Phase 2 and Kohelia.
  • NEXI has failed to assure that its guidelines on environmental and social considerations were properly implemented in the context of Matarbari Phase 1. Matarbari Phase 1 does not meet standards listed in the NEXI’s ESIA environmental checklist for thermal power including resettlement, living and livelihood and working conditions and does not meet IFC Performance Standards which NEXI uses to assess projects.

The people of Bangladesh deserve a sustainable future where coal is out of the picture and renewable energy drives the country’s progress.

We urge Sumitomo to suspend plans to build coal-fired power and utilise the capital to deploy clean, renewable energy projects. The financial institutions involved in the projects – NEXI, JICA and SMBC must live up to their strong climate commitments and or their standards for environmental and social considerations and withdraw financial support from these coal power plants immediately.

জলবায়ু নীতি লঙ্ঘন

জাইকা, সুমিতোমো ও এসএমবিসির প্রত্যেকেই যে জলবায়ু অঙ্গীকার করেছিল, মাতারবাড়ির তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের সেসব অঙ্গীকার ভঙ্গ হচ্ছে। অন্যদিকে, মাতারবাড়ি প্রথম ধাপে নিজেদের পরিবেশগত ও সামাজিক বিবেচনা সংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে নেক্সি।

  • জাইকা: স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে দূর্যোগ সহনশীল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছিল সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ফর ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ২০১৫-২০৩০। এই ফ্রেমওয়ার্ক এবং জাতিসংঘের সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) মেনে চলার অঙ্গীকার করেছিল জাইকা। তাছাড়া, সংস্থাটি নিজেই একটি জলবায়ু পরিবর্তন সহায়তা কৌশল প্রণয়ন করেছে। এ কৌশলের আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বল্প কার্বন নিঃসরণকারী ও জলবায়ু সহনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সক্রিয় সহায়তা দেয়ার কথা জাপানি এই উন্নয়ন সংস্থার।
  • সুমিতোমো: একটি কার্বনমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি জলবায়ু সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেছিল সুমিতোমো। পাশাপাশি প্যারিস চুক্তির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সংস্থাটি তার সর্বশেষ জলবায়ু নীতিমালায় নতুন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি বাদ দিয়েছে।
  • এসএমবিসি: নতুন পরিকল্পিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহায়তা বন্ধ করার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে এসএমবিসি। মাতারবাড়ি দ্বিতীয় ধাপ ও কোহেলিয়ার মতো নতুন প্রকল্পগুলো নিশ্চিতভাবে এই নীতিমালার আওতাভুক্ত হওয়ার কথা।
  • নেক্সি: মাতারবাড়ি প্রথম ধাপে পরিবেশগত ও সামাজিক বিবেচনা সংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে নেক্সি। নেক্সির পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (ইএসআইএ) তালিকায় তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পুনর্বাসন, জীবন, জীবিকা ও কাজের পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পূর্বশর্ত রয়েছে। মাতারবাড়ি প্রকল্পের প্রথম ধাপ সেসব শর্ত পূরণ করে না। বিভিন্ন প্রকল্প মূল্যায়ন করতে নেক্সি যে আইএফসি পারফরমেন্স স্ট্যান্ডার্ডস ব্যবহার করে, তার সাথেও মাতারবাড়ি প্রকল্পটি সাংঘর্ষিক।

বাংলাদেশের মানুষের একটি উন্নত ভবিষ্যত প্রাপ্য, যেখানে প্রেক্ষাপট থেকে কয়লা বিদায় নেবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানীই হবে দেশের উন্নতির চালিকাশক্তি।

আমরা সুমিতোমোকে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করে সেই পুঁজি পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই। নেক্সি, জাইকা, এসএমবিসিসহ মাতারবাড়ি প্রকল্পে জড়িত প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরই উচিত তাদের দৃঢ় জলবায়ু অঙ্গীকার, পরিবেশগত মান ও সামাজিক বিবেচনা মেনে চলার পাশাপাশি এসব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করা।


References

  1. Bangladesh Poribesh Andolon & Waterkeepers Bangladesh, ‘The tourist capital of Bangladesh endangered by plans to build the largest coal power hub in the world’ (November 2019).
  2. Bangladesh Working Group on External Debt (BWGED), ‘Initial Observation of BWGED on Matarbari Coal Power Plant’ (7 August 2018).
  3. Climate Central, ‘Coastal Risk Screening Tool’ (Accessed 10 April 2020).
  4. Climate Central, ‘Flooded Future: Global vulnerability to sea level rise worse than previously understood’ (29 October 2019).
  5. Dan Tong et al, ‘Committed emissions from existing energy infrastructure jeopardize 1.5 °C climate target’. Nature volume 572, page s373–377 (2019). DOI: https://doi.org/10.1038/s41586-019- 1364-3.
  6. European Commission’s Joint Research Centre (JRC), ‘Fossil CO2 and GHG emissions of all world countries – 2019 Report’ (2019).
  7. Global Energy Monitor (GEM), ‘Global Coal Plant Tracker – January 2020 dataset’ (not publicly available).
  8. Greenpeace Southeast Asia & and Greenpeace Japan, ‘A Deadly Double Standard: How Japan’s financing of highly polluting overseas coal plants endangers public health’ (20 August 2019).
  9. Health Effects Institute, ‘State of Global Air 2019 – Special Report’ (2019).
  10. International Finance Corporation. ‘Performance Standards on Environmental and Social Sustainability.’ (1 January 2012). 
  11. IJGlobal, ‘Asset Data and Transaction Data’ (accessed 10 May 2020).
  12. IJGlobal, ‘Bangladesh and JICA sign coal-fired loan’ (2 July 2019).
  13. IJGlobal, ‘Kohelia Coal-Fired Power Plant (700MW)’ (accessed 10 May 2020).
  14. Institute for Energy Economics and Financial Analysis (IEEFA), ‘IEEFA Update: Bangladesh’s coal expansion plans stir criticism’ (26 June 2019).
  15. IQAir, ‘2019 World Air Quality Report’ (February 2020).
  16. Japan International Cooperation Agency, ‘JICA Climate Change Cooperation Strategy’ (September 2016).
  17. Lifetime CO2 estimates are based on the Global Energy Monitor’s (GEM) Global Coal Plant Tracker (GCPT) July 2019 dataset (not publicly available).
  18. Nippon Investment and Investment Insurance, ‘Environmental Checklist 12: Thermal Power.’ (Accessed 10 June 2020).
  19. Nippon Investment and Investment Insurance, ‘Guidelines on Environmental and Social Considerations in Trade Insurance’ (April 2017). 
  20. Market Forces ‘Choked by Coal: the Carbon Catastrophe in Bangladesh’ (6 November 2019).
  21. Market Forces, ‘Small steps in the race to save our climate’ (17 April 2020).
  22. Prothom Alo, ‘মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র লকডাউনের দাবি, কর্তৃপক্ষ বলছে কাজ চলবে’ (10 April 2020).
  23. Relief Web, ‘Cox’s Bazar: Maheshkhali – Water Logging’ (9 July 2018).
  24. Sembcorp, ‘Sembcorp Climate Change Strategy’ (March 2018).
  25. Sumitomo Corporation, ‘Integrated Report 2019’ (Accessed 18 May 2020).
  26. The Daily Star, ‘Displaced by development’ (1 December 2019).
  27. The Financial Express, ‘Downpour maroons people of Moheshkhali’s Matarbari’ (29 July 2018).